কিভাবে ব্যাংক ঋণ পাব : যোগ্যতা ও কাগজ পত্র

বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংক সমূহ তাদের মূল আয়ের উৎস হিসেবে ঋণ বা লোন প্রদান ও আদায় এর উপর নির্ভর করে থাকে। তাছাড়া আমাদের দেশে বর্তমানে তরুন সমাজ ব্যবসার প্রতি ঝুকছে। কিন্তু বেশিরভাগ সময়ে তাদের মূলধন সংকটে ভুগতে হয়। যা সমাধান করতে পারে ব্যাংক। তাই লোন নেবার পূর্বে আমাদের জানতে হবে ব্যাংক ঋণ পাওয়ার উপায়, যোগ্যতা ও কাগজ পত্র। তাই চলুন আজ আমরা জানার চেষ্টা করি কিভাবে ব্যাংক ঋণ পাব, এবং তার জন্য কী ধরণের যোগ্যতা লাগবে ও কী ধরনের কাগজ পত্র লাগবে।


কিভাবে ব্যাংক ঋণ পাব, তার জন্য কী কী যোগ্যতা বা কাগজ লাগবে তা নির্ভর করে কোন ধরণের ঋণ নেয়া হবে। যদি ব্যবসায়ীক ঋণ প্রয়োজন হয় তবে এক ধরনের যোগ্যতা, বেতনের উপর ব্যক্তিগত ঋণ নিলে আরেকধরণের যোগ্যতা প্রয়োজন হয়। তাই চলুন এ বিষয়ে বিস্তারিত জানার চেষ্টা করি।

ব্যাংক ঋণ পাওয়ার সাধারণ যোগ্যতা

ব্যাংক লোন পাওয়ার জন্য কিছু সাধারন যোগ্যতা আবস্যক । তো ব্যাংক লোন পাওয়ার  সাধারন যোগ্যতা গুলো হলো:

  • সাধারণভাবে গ্রাহক কে একজন সুস্থ মস্তিষ্কের ব্যক্তি হতে হবে।
  • অন্য কোথাও তাকে ঋণ খেলাপি হওয়া যাবে না।
  • ব্যবসা বা চাকরি বা ইনকামের উৎস বৈধ হতে হবে।
  • অনৈতিক কাজ বা ব্যবসায় ব্যাংক বিনিয়োগ করে না।
  • সর্বপরি নিজের ক্ষেত্রে তথ্য প্রদানে সততা রাখতে হবে।

লোন পাওয়ার ধরণ ভিত্তিক যোগ্যতা ও কাগজ পত্র:

সাধারনত ছয় ধরনের লোন বা ঋন পাওয়া যায়, যেগুলো হলো

  1. ব্যবসায়ীক ঋণ
  2. যাক্তিগত লোন
  3. হোম লোন
  4. যানবাহন ঋণ
  5. প্রবাসী লোন
  6. কৃষি লোন

এবার এই লোনগুলো নেবার জন্য লোন ভিত্তিক কিছু কাগজপত্র ও তথ্য দরকার পড়ে । সেগুলো নিচে আলোচনা করা হলো ।

ক. ব্যবসায়ীক ঋণ:

ব্যবসায় ঋণের ক্ষেত্রে ব্যবসার ধরণের উপর নির্ভর করে।

একজন গ্রাহকের ব্যবসা হতে পারে উৎপাদন মূলক বা সেবা মূলক বা মধ্যস্বত্ত্ব ভোগীদের মত।

তাই এর উপর নির্ভর করে তার কাগজপত্র বা যোগ্যতা নির্ধারিত হয়।

তবে সাধারণ যে বিষয়গুলো নজরে রাখা হয় তা হলো-

ব্যবসার বয়স, ব্যবসায়ের পরিস্থিতি, বিগত বছরের ব্যবসায় লাভ-ক্ষতির হিসাব, ব্যবসায়ের বৈধতা, সংশ্লিষ্ট লাইসেন্স, ব্যবসা মালিকের বৈধতা ও গ্রহণযোগ্যতা, নাগরিকত্ব, মালিকের ঠিকানা ও তথ্যের সত্যতা ইত্যাদি।

এসকল বিষয়ে আপনার তথ্য সঠিক হলে আপনি লোনের জন্য যোগ্য হবেন।

খ. ব্যাক্তিগত লোন:

ব্যাক্তিগত ঋনের বেলায় যোগ্যতা নির্ভর করে যে বিষয়গুলোর উপর তা হলো- আয়ের উৎস, বৈধতা, আয়ের পরিমাণ, আয়ের স্থায়ীত্ব, কাজের সময়কাল ইত্যাদি।

গ. হোম লোন:

বাড়ি তৈরি সংক্রান্ত ঋণের ক্ষেত্রে নির্ভর করে বাড়ি কি কারণে তৈরি করা হবে তার উপর।

তবে সাধারণ যোগ্যতা হলো জমির পরিমান, অবস্থান, দলিলের বৈধতা, দলিলের সঠিকতা, দলিল মর্টগেজ দেবার যোগ্যতা রয়েছে কিনা ইত্যাদি।

ঘ. যানবাহন ঋণ:

যদি নতুন ধরনের যান হয় তবে কোম্পানি প্রদত্ত কোটেশন লাগবে।

এ ছাড়া বাকি সব একই।

তবে গ্রাহকের বৈধ আয়ের উৎস সম্পর্কে প্রমাণ দিতে হবে।

ঙ. প্রবাসী লোন:

এ ধরনের লোনের ক্ষেত্রে গ্রাহক যে দেশে যাবেন তার চাকুরির নিয়োগপত্র লাগে।

পাশাপাশি শ্রম ও জনশক্তি এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রনালয়ের অনুমোদন লাগবে।

বিদেশ গমনের সার্ভিস চার্জের বিবরণ লাগবে।

সেই সাথে তিনি যে শ্রমও জনশক্তি এবং বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রনালয়কে জানিয়েছেন সেই মর্মে মন্ত্রনালয়ের গমন পত্র।

চ. কৃষি লোন:

এক্ষেত্রে গ্রাহকের কৃষক হবার যোগ্যতা প্রমান করতে হয়।

গ্রাহকের চাষের জমি বা খামারের সত্যতা ও স্থায়ীত্ব, সেই সাথে কত বছর যাবত কৃষি কাজ এর সাথে সম্পৃক্ত তা জানাতে হয়।

পাশাপাশি কৃষি সংক্রান্ত প্রনোদনা কার্ড বা কৃষি ভর্তুকি কার্ড আছে কিনা তা দেখতে হয়।

সাধারণত প্রয়োজন হওয়া কাগজপত্র:

কোন গ্রাহক ঋণ প্রদানের যোগ্য হলে তার ঋনের ধরনের উপর নির্ভর করবে তার কাগজপত্র।

তবে সাধারণ ভাবে প্রত্যেক ধরনের ঋণেই যে গুলো প্রয়োজন হয়-

  • গ্রাহকের জাতীয় পরিচয়পত্র
  • সদ্যতোলা রঙিন পাসপোর্ট সাইজের ছবি
  • গ্যারেন্টার বা জামিনদারের পরিচয়পত্র ও ছবি
  • বিদ্যুৎ বিলের কপি বা ইউটিলিটি বিলের কপি
  • আয়ের বিবরণ ও তদসংশ্লিষ্ট লাইসেন্স
  • চেক বই

এছাড়াও ব্যাংক ভেদে আরও কিছু কাগজ পত্র প্রয়োজন হয়। যা সংশ্লিষ্ট ব্যাংক প্রদত্ত শিডিউল অনুসারে পূরণ করতে হয়।

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!